দ্যাশডা joker এ ভইরা গ্যাছে দেহি!!! 
লিখেছেন তারিক রিদওয়ান, সন্ধ্যা ০৬: ১৮, ০৮ আগস্ট, ২০১১
লেখার যে শিরোনামটা দেখছেন, এটা হলো ৮ অগাস্ট ২০১১ সনে দেয়া আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস। আমার ভার্সিটির এক আপু এই স্ট্যাটাসের হেতু জিজ্ঞেস করিলেন, উত্তরে বলিলাম, "হাহাহাহাহা!! শ্যামলী থেইক্কা ৭ নাম্বার বাসে কইরা বাসায় ফিরতাছিলাম, দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার যাত্রায় এমন সব joker কে দেখলাম, যেসব joker এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় শুধুমাত্র আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশেই!!!!
" স্বভাবতই কৌতূহল জাগার মতোই উত্তর। আপু পুনারায় জিজ্ঞাসা করিলেন, "একটু বৃত্তান্ত দাও আমি না দেইখা মজা লই :P". বৃত্তান্ত শুরু করিয়াছিলাম, কিন্তু দেখিলাম কতক লাইনের কমেন্টের মাধ্যমে এই joker-বৃন্দের এবং তাদের কার্যকলাপের কাহিনী বর্ণনা করা সম্ভবপর নহে, কারণ এই joker-দিগের joke এর মান সত্যিই বেশ উঁচুমানের এবং superior!
তাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলাম পুরো ঘটনা লিখিয়া ফেলিনা কেন? বহুদিন তো লেখা হয়না, লেখার খড়াটাও একটু কাটিবে এই সুযোগে, যেই ভাবনা সেই কাজ, আপুকে বলিয়া দিলাম বৃত্তান্ত আমি দিচ্ছি, তবে কমেন্টে না, একটা ব্লগপোস্টের মাধ্যমেই। 
আমার লেখার হাত কখনোই ভাল ছিলোনা, স্বাভাবিকভাবেই এ লেখাটিও পূর্ববর্তী লেখাসমূহের ধারা বজায় রাখিয়াছে। আমরা জানি ভাষায় সাধু-চলিতের মিশ্রণ দূষনীয়, কিন্তু পাঠকবৃন্দ, আমি বেশ বেরসিক মানুষ, এই নিয়ম আমার ভালা লাগেনা, য্যামনে ভালা লাগে হ্যামনেই লেখি, তাই লেখার মইধ্যে দেখিবেন সাধু-চলিতের সাথে বিভিন্ন আঞ্চলিক/উদ্ভট বাংলার উপস্থিতি, হয়তো এক লাইনের মধ্যেই খুঁজে পাবেন বেশ ক' ধরনের বাংলা! মাইন্ড খাইয়েননা আবার! আশা করি বুইঝতে পারিছেন।
* * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * *
দীর্ঘ ৮ মাস পর দেশে ফিরেছিলাম সেমিস্টার ব্রেক পেয়ে, এর আগেও এসেছিলাম ৩ বার, কিন্তু তখন
দেশের অবস্থার এতোটা পরিবর্তন দেখিনি যা এবার দেখছি! এ টু জেড সবকিছুই চেঞ্জড! মানুষের ব্যবহার থেকে শুরু করে যানজট, মন্ত্রীদের পাগলা বাণী আরো কতকিছু... সবাইকে মনে হচ্ছে এক একজন great joker. আজিব এক দেশে আছি আমরা, সত্যিই এক আজিব দেশ! আজ সকালে শ্যামলী গিয়েছিলাম এক কাজে, কাজ শেষ বাসায় ফিরতে গিয়েই হলো রোমাঞ্চকর কিছু অভিজ্ঞতা, সেগুলোই ঘটনার মাধ্যমে বর্ণণা করার বৃথা চেষ্টা করলাম...
ঘটনা ১:
আপ্পির মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের সামনে দাঁড়িয়ে আমি, বাসের অপেক্ষায়। ৮ নাম্বার বাস যাত্রীতে টুইটম্বুর, তারপরও এক বালক ঐ চলন্ত বাসে উঠার চেষ্টা করলো, কিন্তু দুই পা ফসকে গেলো, এক হাতও ছুটে গেলো বাসের হ্যান্ডেল থেকে, শুধুমাত্র এক হাত দিয়ে বাসের দরজার আরেক হ্যান্ডেল ধরে আছে আর শরীরের অর্ধেক চলে গেছে চলন্ত গাড়ির তলায়। গাড়ি সামনে এগোচ্ছে আর বালকটি বৃষ্টির কারণে পিছলা এবং ভেজা রাস্তায় ডলা খেতে খেতে অর্ধ-শোয়া অবস্থায় সামনে এগিয়ে যাচ্ছে (অনেকটা বাংলা সিনেমায় নায়ক যেমন ভিলেনকে ঘোড়ার সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাস্তায় ডলা দিতে দিতে নিয়ে যায় সেইভাবে)... গাড়ীর চাকার নিচে পড়ে পিষে মরতো আমার চোখের সামনে পোলাটা, কিন্তু কেমনে যে আল্লাহ বাঁচাইলো, সেটা এক miracle!!!
ঘটনা ২:
বহুত কষ্টে ১টা বাস পাইলাম, ৭ নাম্বার বাস (গাবতলী-সদরঘাট)। যাত্রীরা নামছে। আমি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি কখন যাত্রীদের নামা শেষ হবে আর আমি উঠব বাসে... এক যাত্রী নামছিলো দু'টো বড় তেলের টাঙ্কি নিয়ে। ১টা টাঙ্কি হেল্পারকে দিল আর হেল্পার সেটা বাস থেকে নামালো। বাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা ভাবলো যে যারা নামার তারা নেমে গিয়েছে, সবাই উঠা শুরু করলো। কিন্তু তখনও ঐ ব্যক্তির ২য় তেলের টাঙ্কি নামানো বাকি এবং সেও বাসের ভিতরে। সে নামার আগেই যাত্রী উঠে গিয়েছে দেখে সে চিল্লায় উঠলো, "ঐ মিয়া, নামনের আগে উঠতাছেন ক্যান?"... কথাটা একটু জোরেই বলেছিল সে, যা সবেমাত্র বাসে উঠা এক যাত্রীর সম্মানে প্রচণ্ড আঘাত হানলো আর সেই আঘাতের যাতনা সইতে না পেরে তিনি ঐ তেলের টাঙ্কিওয়ালা ব্যক্তির গালে কষে একখান থাবড় বসায়া দিলেন। থাবড় খাইয়া তৈলের টাঙ্কিওয়ালা ব্যক্তির মেজাজ হয়া গেলে টং। বলাবাহুল্য, শোষিত ব্যক্তি অথবা থাবড় খাওয়া ব্যক্তিটি হলেন তাগড়া জোয়ান, থাবড় ভক্ষণ করিয়া মেজাজ ঠিক না থাকাই স্বাভাবিক, তাও আবার রোজা রমজানের দিনে বাসের মধ্যে এমন চিপায়, অন্যদিকে যিনি থাবড় দিয়েছেন তিনি আমার বাপের বয়সী মনে হলো। থাবড় ভক্ষণ করিবার সাথে সাথেই তৈলওয়ালা তার পেশীবহুল হাত দিয়ে শুরু করিলেন মাইর। দৃশ্য দেইখ্যা খুব খারাপ লাগলো, এমন তাগড়া জোয়ান মারা শুরু করছে এমন বুইড়া রে, অবশ্য দোষ ঐ বুড়ো ব্যক্তিরই... অন্যদিকে রাস্তায় হট্টগোল লেগে গেলো কাহিনী কি দেখার জন্য। হুজুগে বাঙালী এসে জড়ো হলো বাসের সামনে... সে এক অভুতপূর্ব দৃশ্য!
ঘটনা ৩:
বাসে উঠে চিপার মধ্যে আছি খুব টেনশানে, কোন সময় না জানি আবার আমার মূল্যবান জিনিষপত্র লুট করে ফেলে পকেটমার ভ্রাতারা! :( রোজার দিনে নাকি ভ্রাতারা ঈমানের জোশ নিয়ে পকেট লুট করে। বাসে জিনিষপত্র যাতে পকেটমার ভ্রাতারা লুট না করতে পারে এজন্য দেশে এসেই কিনেছিলাম দু'টো মোবাইল প্যান্ট (যদিও এটাই প্যান্ট কেনার একমাত্র কারণ না, ইতিপূর্বে যে দু'টো প্যান্ট ছিল সেগুলো ছোট হয়ে গিয়েছে তাই), যাতে হাঁটুর পকেটে মোবাইল রাখা যায়। কিন্তু বাসে উঠে মোবাইল প্যান্টও নিরাপদ মনে হচ্ছেনা, পিছনের পকেটে মানিব্যাগ, বাম হাঁটুর পকেটে Nokia E63 আর ডান পকেটে Motorola WX181, সবগুলো কিভাবে সামাল দিব বুঝে উঠতে পারছিলামনা। ঢাকার লোকাল বাসগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মানুষগুলো দাঁড়িয়ে থাকে বাসের ১ম অর্ধেক জায়গা জুড়ে , বাকি জায়গাটুকু পুরোই খালি! এই বাসের অবস্থাও তেমন। আবার বাসগুলোর মধ্যে যে জায়গা থাকে সেখানে দু'জন দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, ৩ জন হলে অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। আর আমি দাঁড়িয়ে আছে দু'জনের মধ্যে, চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা! :( ভাবলাম যত দ্রুত সম্ভব বাসের পিছনে ফাকা জায়গায় গিয়ে দাড়াতে হবে নাহলে ভীড়ের মধ্যে পকেটমার ভ্রাতারা তাদের কর্ম সম্পাদন করে ফেলতে পারেন। কিন্তু অবস্থাও এমন যে পিছনেও যাওয়া যাচ্ছেনা! সবার শেষে যে দু'জন দাঁড়িয়ে আছে তাদেরকে বেশ ক'বার বললাম ভাই আপনারা অনুগ্রহ করে একটু পিছনে যান অথবা আমাদের জায়গা দিন যাতে আমরা পিছনে খালি জায়গায় চলে যেতে পারি। কিন্তু আমার এই আহাম্মক ভ্রাতাদ্বয় এমন রাম বয়রা যে আমাদের এতো অনুরোধ শুইন্যাও অন্যদিকে চায়া রইলো ভাবখানা এমন যে কিচ্ছুই হুনেনাইক্কা। ইচ্ছা করতাছিলো কানের লতি বরাবর ২ ইঞ্চি নিচে ২ডা বয়রা দিয়া বাসের জানালা দিয়া ফিক্কা ফালায়া দেই। কিন্তু এতে নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে ভেবে এবং রোজার মাসে মেজাজ গরম না করার কল্পে সেই কাজে আর উদ্যত হলামনা, 3 idiots এর Rancho-র বললাম, "Aal iz well, Aal iz well"... হুম, মেজাজ কিছুটা ঠাণ্ডা হইলো মনে হয়। যখন দেখলাম যে অনুরোধে কাজ হচ্ছেনা তখন দুই সাইডের মানুষগুলোর ঠ্যাং এর উপর লাংকাউয়ি থেকে কেনা আমার ৯ রিংগিতের প্লাস্টিকের বাটা জুতো তুলে দিয়ে জায়গাটা পার করলাম এবং পিছনের দিকে খালি জায়গায় এসে দাড়াতে সক্ষম হলাম। খালি জায়গায় এসে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই আরেক joker এর দেখা, ধরলাম ওনার নাম বজলু খালু। পাঠকবৃন্দ, ওনার কাহিনী ঘটনা ৫ এ বর্ণিত হইবেক ইনশাল্লাহ।
ঘটনা ৪:
৩২ নাম্বারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাছে মিরপুর রোড দিয়া যখন বাস যাইতেছিল, তখন দেখি এক ব্যক্তি এই ঘন বৃষ্টির মধ্যে উদাম গায়ে একটি মাত্র লুঙ্গি এবং মাথায় চাষীদের টুপি পরিধান করিয়া হাত দু'টো চারদিকে ছুড়িয়া মনের সুখে হই হই করিয়া ব্যায়াম করিতেছেন, confused হইয়া গেলাম, এই ব্যক্তি এমুন করতাছে ক্যালা? কেন সে এই রোজার দিনে তাও আবার ঘন রিমঝিম বৃষ্টির মাঝে রাস্তার আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করবার চায়?? পরে বুঝিতে পারিলাম আসলে বেচারা পাগল। বড়ই দুঃখ হইলো বেচারার জন্য, কিন্তু আমার দুঃখে কিই বা আসে যায়? সে ব্যক্তি নিজেই তো বিশ্বের সবচাইতে সুখী ব্যক্তি!
ঘটনা ৫:
ফিরিয়া আসি বজলু খালুর কাহিনীতে, আমি বাসের মধ্যেখানের চিপা অতিক্রম করিয়া যেই না মাত্র বাসের শেষ প্রান্তে উন্মুক্ত স্থানে গিয়া খাড়াইলাম, দেখি বজলু চাচা আমার দিকে "হা" করিয়া চাইয়া রইছে। বুঝলামনা কাহিনী কি, সুন্দরী মাইয়া দেইখ্যাও তো আজকালকার ডিস্কো পোলাপাইন এম্বায় তাকায়না, এই ব্যাডা আমার দিকে এম্বায় তাকায় ক্যালা? :( কিছু বুইঝা উঠবার পারতাছিলামনা, হঠাৎ তিনি জিগাইলেন, "কি ব্যাপার তুমি এমন ঘামছ কেন?" আকাশ থেইক্কা পড়লাম আমি। কাহিনী কি? দুনিয়ায় এতো কিছু থাকতে বজলু খালু হঠাৎ আমারে এই প্রশ্ন করে ক্যালা? আমি কিছুক্ষণ "হা" কইরা বজলু খালুর দিকে চায়া রইয়া উত্তর দিলাম, "বাসে সামনের দিকে অনেক ভীড়ের মধ্যে ছিলাম তো, তাই"। এরপর আর বজলু খালু কিছু কইলোনা, বুঝলামনা উনি এই প্রশ্ন জিগাইছিলেন ক্যালা? যাউকগা, এরপর বজলু খালুর কাহিনী দেইখ্যা তো হাসতে হাসতে পেট ফাইট্টা যাওয়ার মতোন অবস্থা। তিনি ওনার পাশের সিটে বসা ভদ্রলোকরে জিগাইলেন "শুক্রাবাদ আসছে নাকি ভাই?", পাঠকবৃন্দ, আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে ধরে নিলাম বজলু খালুর পাশে যিনি বসিয়া আছেন উহার নাম ময়না কাগু। বজলু খালুর প্রশ্নে দেখলাম ময়না কাগুর চোখে মুখে বিরক্তি ঝড়িয়া পড়িতেছে, তিনি বেশ বিরক্ত হইয়াই উত্তর দিলেন, "দূর আছে"। আমি বুঝলামনা ময়না কাগুর এই বিরক্তির হেতু কি... মনে প্রশ্ন জাগিলো, একজন মানুষ জায়গা চিনেনা হেল্লাইগা জিগাইতাছে, জিগাইতেই পারে, বিরক্ত হওনের কি আছে? আমার এই প্রশ্নের জবাব পাইলাম এক মিনিট পরই। দেখি বজলু খালু আবারও ময়না কাগু রে জিগায় "ভাই শুক্রাবাদ আসছে নাকি? আর কদ্দুর?" আজিব দুনিয়া, বাস জ্যামের লাইগা একই জায়গায়া খাড়ায়া রইছে আর বজলু খালু জিগায় শুক্রাবাদ আইছে কিনা! হাহাহাহাহা!!! ব্যাপক বিনোদন! ময়না কাগু স্বভাবসুলভ বিরক্তি প্রকাশ করিয়াই পুনরায় বলিলেন, "আরো সামনে"। আসাদ গেট আসিবার পূর্বে বজলু খালু এ প্রশ্ন কমপক্ষে আরো ২ বার করিলেন ময়না কাগুকে... হাহাহাহা!!! তখন মনে হচ্ছিল, আহা! বজলু খালুর মত মানুষ আছে বলিয়াই তো দুনিয়া এত্তো রঙ্গীন। B-)
আসাদ গেট পার হওয়া মাত্রই বজলু খালুর যেন আর তর সইছেনা, তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে এখনই নামিয়া যাইবেন। আচ্ছা নামেন, কিন্তু নামার আগে তিনি ময়না কাগুর ঠ্যাং এ জুতোর তলের কিছু ধুলো লাগিয়ে দিয়ে গেলেন এমনকি ময়না কাগুর ঠ্যাং এর তলে থাকা তাহার ব্যাগের উপরও 20N বলের একটি চাপ দিয়ে গেলেন। বেচারা বজলু খালুর দোষ নাই, তিনি না দেখিয়াই এ কাজ করিয়াছেন, কিন্তু ময়না কাগুরে এই কথা বুঝাইবো ক্যাঢায়? উনি তো রাইগা আগুন, বিরবির কইরা কইতাছেন, "শালার এসব ভোদাই আহে কোইত্থে বুঝিনা!" বজলু খালু চলে যাওয়ার পর আমি ওনার সিটে বসলাম ময়না কাগুর পাশেই। বসে বসে আমি আর ময়না কাগু অহন বজলু খালুর কাণ্ডকীর্তি দেখতাছি, হাহাহাহাহা বেচারা সত্যিই একখান pure বিনোদন, পুরাই frutika-র লাহান, একটু বেশিই pure
ময়না কাগুরে পাড়ায়া গেট পর্যন্ত পৌঁছার সময় তিনি অন্যান্য মানুষদেরও পাড়া দিয়ে দরজার সামনে চলে যাচ্ছেন, উনি ভেবেছেন শুক্রাবাদ চলে এসেছে, কিন্তু শুক্রাবাদ তো এখনও বেশ খানিকটা দূরে... তিনি বাস থেকে নেমে পড়লেন আর হেল্পাররে জিগাইলেন, "এইডা শুক্রাবাদ না?" হেল্পার কয়, "ধুর মিয়া, এইখানে নামছেন ক্যান? শুক্রাবাদ আরো সামনে"। এইটা শুইনা বজলু খালু আবার বাসে উইঠা পড়লো, হাহাহাহহা!! ব্যাপক বিনোদন। বজলু খালুর এই কাণ্ড দেইখ্যা ময়না কাগু কয়, "এই ব্যাডায় সেই শিশুমেলার ঐখান থেকে প্রতি মিনিটে মিনিটে আমাকে জিজ্ঞেস করতেছে শুক্রাবাদের কথা, আমি কইলাম যে শুক্রাবাদ আসলে কমু, কিন্তু শালায় শুনেইনা, কোইত্থে আহে এইসব ভোদাই!!" শুনে তো আমার পেট যেন ফাইট্টাই গেলো, হাহাহাহহাহাহা।
ঘটনা ৬:
আজিমপুর পৌঁছল বাস, হেল্পার চিল্লায়া উঠলো, "ঐ আজিমপুর আইছে, নামেন নামেন, আজিমপুর আজিমপুর, শেষ ঠিকানা আজিমপুর, নাইমা পড়েন"। পাঠকগণ, হয়তো মনে প্রশ্ন জাগছে আপনাদের, হেল্পার কেন আজিমপুরকে শেষ ঠিকানা বলছিল? কারণ হলো এখানেই আছে "আজিমপুর কবরস্থান"। অনেক হেল্পারই আজিমপুর পৌঁছলে "শেষ ঠিকানা আজিমপুর আইছে" বলে সবাইকে ডাকেন। যাই হউক, এরপরের কাহিনী বড়ই মজার। বাসের কন্ট্রাক্টর সাহেব হইলো ঘন কালো দাঁড়ির অধিকারী। ভাড়া তুলতে আসিলেন কন্ট্রাক্টর, বলিলেন, "অই ভাড়া দেননাই ক্যাঢা ক্যাঢা ভাড়া দেন, শেষ ঠিকানা আজিমপুর আইছে যারা নামনের নাইম্যা পড়েন"। আমার সামনের সিটে বসে বুড়ো চাচা, সাদা আর খয়েরীর মিশ্রণে বেশ সুন্দর দাড়ি ওনাকে দান করেছেন আল্লাহতাআলা, বয়স হয়েছে বেশ। তিনি ভাড়া দিলেন। কন্ট্রাক্টর জিগাইলো, "কোইত্থে উঠছেন, যাইবেন কই?" বুড়ো চাচা বলিলেন, "নিউমার্কেট থেইক্কা চাঙ্খারপুল"। কন্ট্রাক্টর কয়, "ভাড়া তো ২ টাকা কম দিলেন, ২টাকা দ্যান"। বুড়ো চাচার উত্তর, "এইডাই ভাড়া, এর বেশি দিমুনা"। শুইন্যা কন্ট্রাক্টর কয়, "ভাড়াটা দিয়া দেন বেশি গ্যাজাইয়েননা, চাচা দ্যাহেন, মোর দাড়ি ক্যামন ঘন কালা, আপনার এই সাদা দাড়িও একদিন মোর দাড়ির লাহান কালা আছিল, অহন সাদা হইয়া গ্যাছে, দুইদিন পর তো শেষ ঠিকানা হইয়া যাইবো আজিমপুর, বুঝবার পারতাছেন তো? হেল্লাইগাই কইতাছি, টাকা কম দিয়েননা"। কন্ট্রাক্টর সাহেবের এত্তো শক্তিশালী যুক্তি সত্ত্বেও বুড়ো চাচার মন গলিলোনা, নিয়তির সে এক নির্মম পরিহাস!
পরিশেষে...
যাই হউক, দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট যাত্রা শেষে আমার গন্তব্যস্থল "এতিমখানা" এসে পৌঁছুলাম, যদিও ১৫ মিনিটের রাস্তা লাগেছে ১.২০ ঘণ্টা, কিন্তু পথিমধ্যে বিভিন্ন joker এর দেয়া বিনোদন আমার এই যাত্রাকে স্মরণীয় করিয়া রাখিবে! আমি সত্যিই confused হইয়া গিয়াছি এইবার দেশে আসিয়া, আসলে কাহিনীটা কি? গত ৮ মাসে দেশটা এত্তো বেশিই change হইয়া গিয়াছে?? জীবনের ১৯ টা বছর কাটাইলাম এই দেশে, তখন তো এমন ছিলনা... কিন্তু এতো প্রশ্ন করিয়াই বা কি লাভ? যা হবার তা তো হইয়াই গিয়াছে, মনকে শান্তনা দিলাম, "দুনিয়াডা বড়ই আজিব রেহ!! আজিব দুনিয়া…!!"
আমার লেখার হাত কখনোই ভাল ছিলোনা, স্বাভাবিকভাবেই এ লেখাটিও পূর্ববর্তী লেখাসমূহের ধারা বজায় রাখিয়াছে। আমরা জানি ভাষায় সাধু-চলিতের মিশ্রণ দূষনীয়, কিন্তু পাঠকবৃন্দ, আমি বেশ বেরসিক মানুষ, এই নিয়ম আমার ভালা লাগেনা, য্যামনে ভালা লাগে হ্যামনেই লেখি, তাই লেখার মইধ্যে দেখিবেন সাধু-চলিতের সাথে বিভিন্ন আঞ্চলিক/উদ্ভট বাংলার উপস্থিতি, হয়তো এক লাইনের মধ্যেই খুঁজে পাবেন বেশ ক' ধরনের বাংলা! মাইন্ড খাইয়েননা আবার! আশা করি বুইঝতে পারিছেন।
* * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * *
দীর্ঘ ৮ মাস পর দেশে ফিরেছিলাম সেমিস্টার ব্রেক পেয়ে, এর আগেও এসেছিলাম ৩ বার, কিন্তু তখন
দেশের অবস্থার এতোটা পরিবর্তন দেখিনি যা এবার দেখছি! এ টু জেড সবকিছুই চেঞ্জড! মানুষের ব্যবহার থেকে শুরু করে যানজট, মন্ত্রীদের পাগলা বাণী আরো কতকিছু... সবাইকে মনে হচ্ছে এক একজন great joker. আজিব এক দেশে আছি আমরা, সত্যিই এক আজিব দেশ! আজ সকালে শ্যামলী গিয়েছিলাম এক কাজে, কাজ শেষ বাসায় ফিরতে গিয়েই হলো রোমাঞ্চকর কিছু অভিজ্ঞতা, সেগুলোই ঘটনার মাধ্যমে বর্ণণা করার বৃথা চেষ্টা করলাম...
ঘটনা ১:
আপ্পির মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের সামনে দাঁড়িয়ে আমি, বাসের অপেক্ষায়। ৮ নাম্বার বাস যাত্রীতে টুইটম্বুর, তারপরও এক বালক ঐ চলন্ত বাসে উঠার চেষ্টা করলো, কিন্তু দুই পা ফসকে গেলো, এক হাতও ছুটে গেলো বাসের হ্যান্ডেল থেকে, শুধুমাত্র এক হাত দিয়ে বাসের দরজার আরেক হ্যান্ডেল ধরে আছে আর শরীরের অর্ধেক চলে গেছে চলন্ত গাড়ির তলায়। গাড়ি সামনে এগোচ্ছে আর বালকটি বৃষ্টির কারণে পিছলা এবং ভেজা রাস্তায় ডলা খেতে খেতে অর্ধ-শোয়া অবস্থায় সামনে এগিয়ে যাচ্ছে (অনেকটা বাংলা সিনেমায় নায়ক যেমন ভিলেনকে ঘোড়ার সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাস্তায় ডলা দিতে দিতে নিয়ে যায় সেইভাবে)... গাড়ীর চাকার নিচে পড়ে পিষে মরতো আমার চোখের সামনে পোলাটা, কিন্তু কেমনে যে আল্লাহ বাঁচাইলো, সেটা এক miracle!!!
ঘটনা ২:
বহুত কষ্টে ১টা বাস পাইলাম, ৭ নাম্বার বাস (গাবতলী-সদরঘাট)। যাত্রীরা নামছে। আমি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি কখন যাত্রীদের নামা শেষ হবে আর আমি উঠব বাসে... এক যাত্রী নামছিলো দু'টো বড় তেলের টাঙ্কি নিয়ে। ১টা টাঙ্কি হেল্পারকে দিল আর হেল্পার সেটা বাস থেকে নামালো। বাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা ভাবলো যে যারা নামার তারা নেমে গিয়েছে, সবাই উঠা শুরু করলো। কিন্তু তখনও ঐ ব্যক্তির ২য় তেলের টাঙ্কি নামানো বাকি এবং সেও বাসের ভিতরে। সে নামার আগেই যাত্রী উঠে গিয়েছে দেখে সে চিল্লায় উঠলো, "ঐ মিয়া, নামনের আগে উঠতাছেন ক্যান?"... কথাটা একটু জোরেই বলেছিল সে, যা সবেমাত্র বাসে উঠা এক যাত্রীর সম্মানে প্রচণ্ড আঘাত হানলো আর সেই আঘাতের যাতনা সইতে না পেরে তিনি ঐ তেলের টাঙ্কিওয়ালা ব্যক্তির গালে কষে একখান থাবড় বসায়া দিলেন। থাবড় খাইয়া তৈলের টাঙ্কিওয়ালা ব্যক্তির মেজাজ হয়া গেলে টং। বলাবাহুল্য, শোষিত ব্যক্তি অথবা থাবড় খাওয়া ব্যক্তিটি হলেন তাগড়া জোয়ান, থাবড় ভক্ষণ করিয়া মেজাজ ঠিক না থাকাই স্বাভাবিক, তাও আবার রোজা রমজানের দিনে বাসের মধ্যে এমন চিপায়, অন্যদিকে যিনি থাবড় দিয়েছেন তিনি আমার বাপের বয়সী মনে হলো। থাবড় ভক্ষণ করিবার সাথে সাথেই তৈলওয়ালা তার পেশীবহুল হাত দিয়ে শুরু করিলেন মাইর। দৃশ্য দেইখ্যা খুব খারাপ লাগলো, এমন তাগড়া জোয়ান মারা শুরু করছে এমন বুইড়া রে, অবশ্য দোষ ঐ বুড়ো ব্যক্তিরই... অন্যদিকে রাস্তায় হট্টগোল লেগে গেলো কাহিনী কি দেখার জন্য। হুজুগে বাঙালী এসে জড়ো হলো বাসের সামনে... সে এক অভুতপূর্ব দৃশ্য!
ঘটনা ৩:
বাসে উঠে চিপার মধ্যে আছি খুব টেনশানে, কোন সময় না জানি আবার আমার মূল্যবান জিনিষপত্র লুট করে ফেলে পকেটমার ভ্রাতারা! :( রোজার দিনে নাকি ভ্রাতারা ঈমানের জোশ নিয়ে পকেট লুট করে। বাসে জিনিষপত্র যাতে পকেটমার ভ্রাতারা লুট না করতে পারে এজন্য দেশে এসেই কিনেছিলাম দু'টো মোবাইল প্যান্ট (যদিও এটাই প্যান্ট কেনার একমাত্র কারণ না, ইতিপূর্বে যে দু'টো প্যান্ট ছিল সেগুলো ছোট হয়ে গিয়েছে তাই), যাতে হাঁটুর পকেটে মোবাইল রাখা যায়। কিন্তু বাসে উঠে মোবাইল প্যান্টও নিরাপদ মনে হচ্ছেনা, পিছনের পকেটে মানিব্যাগ, বাম হাঁটুর পকেটে Nokia E63 আর ডান পকেটে Motorola WX181, সবগুলো কিভাবে সামাল দিব বুঝে উঠতে পারছিলামনা। ঢাকার লোকাল বাসগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মানুষগুলো দাঁড়িয়ে থাকে বাসের ১ম অর্ধেক জায়গা জুড়ে , বাকি জায়গাটুকু পুরোই খালি! এই বাসের অবস্থাও তেমন। আবার বাসগুলোর মধ্যে যে জায়গা থাকে সেখানে দু'জন দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, ৩ জন হলে অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। আর আমি দাঁড়িয়ে আছে দু'জনের মধ্যে, চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা! :( ভাবলাম যত দ্রুত সম্ভব বাসের পিছনে ফাকা জায়গায় গিয়ে দাড়াতে হবে নাহলে ভীড়ের মধ্যে পকেটমার ভ্রাতারা তাদের কর্ম সম্পাদন করে ফেলতে পারেন। কিন্তু অবস্থাও এমন যে পিছনেও যাওয়া যাচ্ছেনা! সবার শেষে যে দু'জন দাঁড়িয়ে আছে তাদেরকে বেশ ক'বার বললাম ভাই আপনারা অনুগ্রহ করে একটু পিছনে যান অথবা আমাদের জায়গা দিন যাতে আমরা পিছনে খালি জায়গায় চলে যেতে পারি। কিন্তু আমার এই আহাম্মক ভ্রাতাদ্বয় এমন রাম বয়রা যে আমাদের এতো অনুরোধ শুইন্যাও অন্যদিকে চায়া রইলো ভাবখানা এমন যে কিচ্ছুই হুনেনাইক্কা। ইচ্ছা করতাছিলো কানের লতি বরাবর ২ ইঞ্চি নিচে ২ডা বয়রা দিয়া বাসের জানালা দিয়া ফিক্কা ফালায়া দেই। কিন্তু এতে নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে ভেবে এবং রোজার মাসে মেজাজ গরম না করার কল্পে সেই কাজে আর উদ্যত হলামনা, 3 idiots এর Rancho-র বললাম, "Aal iz well, Aal iz well"... হুম, মেজাজ কিছুটা ঠাণ্ডা হইলো মনে হয়। যখন দেখলাম যে অনুরোধে কাজ হচ্ছেনা তখন দুই সাইডের মানুষগুলোর ঠ্যাং এর উপর লাংকাউয়ি থেকে কেনা আমার ৯ রিংগিতের প্লাস্টিকের বাটা জুতো তুলে দিয়ে জায়গাটা পার করলাম এবং পিছনের দিকে খালি জায়গায় এসে দাড়াতে সক্ষম হলাম। খালি জায়গায় এসে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই আরেক joker এর দেখা, ধরলাম ওনার নাম বজলু খালু। পাঠকবৃন্দ, ওনার কাহিনী ঘটনা ৫ এ বর্ণিত হইবেক ইনশাল্লাহ।
ঘটনা ৪:
৩২ নাম্বারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাছে মিরপুর রোড দিয়া যখন বাস যাইতেছিল, তখন দেখি এক ব্যক্তি এই ঘন বৃষ্টির মধ্যে উদাম গায়ে একটি মাত্র লুঙ্গি এবং মাথায় চাষীদের টুপি পরিধান করিয়া হাত দু'টো চারদিকে ছুড়িয়া মনের সুখে হই হই করিয়া ব্যায়াম করিতেছেন, confused হইয়া গেলাম, এই ব্যক্তি এমুন করতাছে ক্যালা? কেন সে এই রোজার দিনে তাও আবার ঘন রিমঝিম বৃষ্টির মাঝে রাস্তার আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ব্যায়াম করবার চায়?? পরে বুঝিতে পারিলাম আসলে বেচারা পাগল। বড়ই দুঃখ হইলো বেচারার জন্য, কিন্তু আমার দুঃখে কিই বা আসে যায়? সে ব্যক্তি নিজেই তো বিশ্বের সবচাইতে সুখী ব্যক্তি!
ঘটনা ৫:
ফিরিয়া আসি বজলু খালুর কাহিনীতে, আমি বাসের মধ্যেখানের চিপা অতিক্রম করিয়া যেই না মাত্র বাসের শেষ প্রান্তে উন্মুক্ত স্থানে গিয়া খাড়াইলাম, দেখি বজলু চাচা আমার দিকে "হা" করিয়া চাইয়া রইছে। বুঝলামনা কাহিনী কি, সুন্দরী মাইয়া দেইখ্যাও তো আজকালকার ডিস্কো পোলাপাইন এম্বায় তাকায়না, এই ব্যাডা আমার দিকে এম্বায় তাকায় ক্যালা? :( কিছু বুইঝা উঠবার পারতাছিলামনা, হঠাৎ তিনি জিগাইলেন, "কি ব্যাপার তুমি এমন ঘামছ কেন?" আকাশ থেইক্কা পড়লাম আমি। কাহিনী কি? দুনিয়ায় এতো কিছু থাকতে বজলু খালু হঠাৎ আমারে এই প্রশ্ন করে ক্যালা? আমি কিছুক্ষণ "হা" কইরা বজলু খালুর দিকে চায়া রইয়া উত্তর দিলাম, "বাসে সামনের দিকে অনেক ভীড়ের মধ্যে ছিলাম তো, তাই"। এরপর আর বজলু খালু কিছু কইলোনা, বুঝলামনা উনি এই প্রশ্ন জিগাইছিলেন ক্যালা? যাউকগা, এরপর বজলু খালুর কাহিনী দেইখ্যা তো হাসতে হাসতে পেট ফাইট্টা যাওয়ার মতোন অবস্থা। তিনি ওনার পাশের সিটে বসা ভদ্রলোকরে জিগাইলেন "শুক্রাবাদ আসছে নাকি ভাই?", পাঠকবৃন্দ, আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে ধরে নিলাম বজলু খালুর পাশে যিনি বসিয়া আছেন উহার নাম ময়না কাগু। বজলু খালুর প্রশ্নে দেখলাম ময়না কাগুর চোখে মুখে বিরক্তি ঝড়িয়া পড়িতেছে, তিনি বেশ বিরক্ত হইয়াই উত্তর দিলেন, "দূর আছে"। আমি বুঝলামনা ময়না কাগুর এই বিরক্তির হেতু কি... মনে প্রশ্ন জাগিলো, একজন মানুষ জায়গা চিনেনা হেল্লাইগা জিগাইতাছে, জিগাইতেই পারে, বিরক্ত হওনের কি আছে? আমার এই প্রশ্নের জবাব পাইলাম এক মিনিট পরই। দেখি বজলু খালু আবারও ময়না কাগু রে জিগায় "ভাই শুক্রাবাদ আসছে নাকি? আর কদ্দুর?" আজিব দুনিয়া, বাস জ্যামের লাইগা একই জায়গায়া খাড়ায়া রইছে আর বজলু খালু জিগায় শুক্রাবাদ আইছে কিনা! হাহাহাহাহা!!! ব্যাপক বিনোদন! ময়না কাগু স্বভাবসুলভ বিরক্তি প্রকাশ করিয়াই পুনরায় বলিলেন, "আরো সামনে"। আসাদ গেট আসিবার পূর্বে বজলু খালু এ প্রশ্ন কমপক্ষে আরো ২ বার করিলেন ময়না কাগুকে... হাহাহাহা!!! তখন মনে হচ্ছিল, আহা! বজলু খালুর মত মানুষ আছে বলিয়াই তো দুনিয়া এত্তো রঙ্গীন। B-)
আসাদ গেট পার হওয়া মাত্রই বজলু খালুর যেন আর তর সইছেনা, তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে এখনই নামিয়া যাইবেন। আচ্ছা নামেন, কিন্তু নামার আগে তিনি ময়না কাগুর ঠ্যাং এ জুতোর তলের কিছু ধুলো লাগিয়ে দিয়ে গেলেন এমনকি ময়না কাগুর ঠ্যাং এর তলে থাকা তাহার ব্যাগের উপরও 20N বলের একটি চাপ দিয়ে গেলেন। বেচারা বজলু খালুর দোষ নাই, তিনি না দেখিয়াই এ কাজ করিয়াছেন, কিন্তু ময়না কাগুরে এই কথা বুঝাইবো ক্যাঢায়? উনি তো রাইগা আগুন, বিরবির কইরা কইতাছেন, "শালার এসব ভোদাই আহে কোইত্থে বুঝিনা!" বজলু খালু চলে যাওয়ার পর আমি ওনার সিটে বসলাম ময়না কাগুর পাশেই। বসে বসে আমি আর ময়না কাগু অহন বজলু খালুর কাণ্ডকীর্তি দেখতাছি, হাহাহাহাহা বেচারা সত্যিই একখান pure বিনোদন, পুরাই frutika-র লাহান, একটু বেশিই pure
ঘটনা ৬:
আজিমপুর পৌঁছল বাস, হেল্পার চিল্লায়া উঠলো, "ঐ আজিমপুর আইছে, নামেন নামেন, আজিমপুর আজিমপুর, শেষ ঠিকানা আজিমপুর, নাইমা পড়েন"। পাঠকগণ, হয়তো মনে প্রশ্ন জাগছে আপনাদের, হেল্পার কেন আজিমপুরকে শেষ ঠিকানা বলছিল? কারণ হলো এখানেই আছে "আজিমপুর কবরস্থান"। অনেক হেল্পারই আজিমপুর পৌঁছলে "শেষ ঠিকানা আজিমপুর আইছে" বলে সবাইকে ডাকেন। যাই হউক, এরপরের কাহিনী বড়ই মজার। বাসের কন্ট্রাক্টর সাহেব হইলো ঘন কালো দাঁড়ির অধিকারী। ভাড়া তুলতে আসিলেন কন্ট্রাক্টর, বলিলেন, "অই ভাড়া দেননাই ক্যাঢা ক্যাঢা ভাড়া দেন, শেষ ঠিকানা আজিমপুর আইছে যারা নামনের নাইম্যা পড়েন"। আমার সামনের সিটে বসে বুড়ো চাচা, সাদা আর খয়েরীর মিশ্রণে বেশ সুন্দর দাড়ি ওনাকে দান করেছেন আল্লাহতাআলা, বয়স হয়েছে বেশ। তিনি ভাড়া দিলেন। কন্ট্রাক্টর জিগাইলো, "কোইত্থে উঠছেন, যাইবেন কই?" বুড়ো চাচা বলিলেন, "নিউমার্কেট থেইক্কা চাঙ্খারপুল"। কন্ট্রাক্টর কয়, "ভাড়া তো ২ টাকা কম দিলেন, ২টাকা দ্যান"। বুড়ো চাচার উত্তর, "এইডাই ভাড়া, এর বেশি দিমুনা"। শুইন্যা কন্ট্রাক্টর কয়, "ভাড়াটা দিয়া দেন বেশি গ্যাজাইয়েননা, চাচা দ্যাহেন, মোর দাড়ি ক্যামন ঘন কালা, আপনার এই সাদা দাড়িও একদিন মোর দাড়ির লাহান কালা আছিল, অহন সাদা হইয়া গ্যাছে, দুইদিন পর তো শেষ ঠিকানা হইয়া যাইবো আজিমপুর, বুঝবার পারতাছেন তো? হেল্লাইগাই কইতাছি, টাকা কম দিয়েননা"। কন্ট্রাক্টর সাহেবের এত্তো শক্তিশালী যুক্তি সত্ত্বেও বুড়ো চাচার মন গলিলোনা, নিয়তির সে এক নির্মম পরিহাস!
পরিশেষে...
যাই হউক, দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট যাত্রা শেষে আমার গন্তব্যস্থল "এতিমখানা" এসে পৌঁছুলাম, যদিও ১৫ মিনিটের রাস্তা লাগেছে ১.২০ ঘণ্টা, কিন্তু পথিমধ্যে বিভিন্ন joker এর দেয়া বিনোদন আমার এই যাত্রাকে স্মরণীয় করিয়া রাখিবে! আমি সত্যিই confused হইয়া গিয়াছি এইবার দেশে আসিয়া, আসলে কাহিনীটা কি? গত ৮ মাসে দেশটা এত্তো বেশিই change হইয়া গিয়াছে?? জীবনের ১৯ টা বছর কাটাইলাম এই দেশে, তখন তো এমন ছিলনা... কিন্তু এতো প্রশ্ন করিয়াই বা কি লাভ? যা হবার তা তো হইয়াই গিয়াছে, মনকে শান্তনা দিলাম, "দুনিয়াডা বড়ই আজিব রেহ!! আজিব দুনিয়া…!!"
.jpg )
বহুত দামি জিনিস । সাবধানে থাইকেন ।
আমি কিন্তু Nokia 1110 নিয়া চলি ।
হি হি হি।
সত্যি সেলুকাস, বিচিত্র এই শহর।